‘পরমাণু আলোচনায় আশাতিরিক্ত অর্জন হয়েছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, পাশ্চাত্যের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় প্রাথমিক আশাবাদের চেয়ে বেশি অর্জন করেছে তার দেশ। তিনি আরো বলেছেন, তার এ উক্তি মোটেই অতিরঞ্জন নয়। দুই বছর আগে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার শুরুতে তার সরকার এতখানি অর্জনের আশা করেনি। রোববার রাতে ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি’কে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট রুহানি।

গত ১৪ জুলাই ভিয়েনায় ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী তেহরান তার পরমাণু কর্মসূচিতে সুনির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করবে। অন্যদিকে পাশ্চাত্য ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।

প্রেসিডেন্ট রুহানি তার সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আলোচনা শেষ হয়েছে দু’পক্ষেরই বিজয়ের মধ্যদিয়ে। ইরানের প্রতিপক্ষ এই ধারণা নিয়ে আলোচনা শেষ করেছে যে, তারা ইরানকে পরমাণু বোমা তৈরি থেকে বহু দূরে সরিয়ে দিয়েছে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে ইরান কখনোই পরমাণু বোমা তৈরি করতে চায়নি। কাজেই ছয় জাতিগোষ্ঠীর জন্য আলোচনার অর্জন ছিল তাদের ভাষায় ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।

অন্যদিকে ইরান যে তিনটি লক্ষ্যে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল তার তিনটিই অর্জিত হয়েছে।ওই তিনটি লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ স্বীকৃতি দিয়েছে, জাতিসংঘ ঘোষণার সপ্তম অধ্যায় থেকে ইরানকে বাদ দেয়া হয়েছে এবং ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে।

ড. রুহানি বলেন, জাতিসংঘ ঘোষণার সপ্তম অধ্যায়ে সেইসব দেশকে অন্তর্ভূক্ত করা হয় যেসব দেশকে নিরাপত্তা পরিষদ বিশ্বের জন্য হুমকি ও বিপদজনক বলে মনে করে। এর আগে এই অধ্যায়ে যেসব দেশকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে সেসব দেশকে হয় হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে অথবা সরকার পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু ইরান প্রথম দেশ হিসেবে আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আপোষে ওই অধ্যায় থেকে বেরিয়ে যেতে পেরেছে।

Comments

comments