ঈদ বাজারে বেপরোয়া অজ্ঞান পার্টি। কীভাবে অভিনব কৌশলে মানুষের সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে থাকে

30-april-2009-peshawar-pa-013_21181

রাজধানীর কয়েকটি থানায় কর্মরত পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কীভাবে অভিনব কৌশলে মানুষের সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে থাকেন অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা।

সাধারণত অজ্ঞান পার্টি বা মলম পার্টির সদস্যরা পাঁচ থেকে ছয়জন করে থাকেন একেকটি দলে। কোরবানির হাটে প্রথমে কোনো একজনকে টার্গেট করে তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এরপর বিভিন্ন খাবারের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাকে খাইয়ে অজ্ঞান করার চেষ্টা করেন।

যাত্রী বেশে গাড়িতে উঠে যাত্রীদের পাশে বসে আচার, চানাচুর, বিস্কুটসহ নানা খাবার খাইয়ে অজ্ঞান করেন দুর্বৃত্তরা। এরপর মালপত্র ও টাকা-পয়সা নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। অনেকে আবার লজেন্স, আচার বিক্রেতা সেজেও এ ধরনের অপরাধ করে থাকেন।

রাস্তার ফুটপাতে মলমের দোকান দিয়ে বসেন অজ্ঞান পার্টির এক সদস্য। অন্যরা পাশ দিয়ে হাঁটতে থাকেন। সাধারণ মানুষের কাছে মলম বিক্রির সময় চক্রের একজন সেখানে দাঁড়িয়ে মলম কেনার ভান করেন। পরে শিকারের চোখে মলম লাগিয়ে অজ্ঞান করে সর্বস্ব ছিনিয়ে পালিয়ে যান তারা। তবে সাধারণত গ্রাম থেকে আসা মানুষই থাকে তাদের টার্গেট।

এছাড়া অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের অপকর্মের অন্যতম টার্গেটে থাকেন ট্রেন যাত্রীরা। এ সম্পর্কে কথা হয় কমলাপুর রেলস্টেশন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামের সঙ্গে।

প্রথমেই তারা যাত্রীদের সঙ্গে খাতির জমানোর চেষ্টা করেন। এরপর যাত্রীর আস্থা অর্জন করে তাকে পান, জুস, ক্রিম বিস্কুট, চানাচুরসহ বিভিন্ন খাবার সাধেন।

পরে ওই গ্রুপের আরেক সদস্য টার্গেট করা যাত্রীর কাছে হকার সেজে খাবার বিক্রি করতে আসেন। সেই খাবারে আগে থেকেই অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ মেশানো থাকে। খাওয়ার পর যাত্রী অজ্ঞান হয়ে গেলে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তাকে অন্যত্র নিয়ে টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যান চক্রের সদস্যরা।

এছাড়া মানুষকে ফাঁদে ফেলতে নিত্যনতুন কৌশল উদ্ভাবন করছেন অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। অজ্ঞান পার্টির কৌশল যে দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে, তার একটি বড় প্রমাণ মেলে কিছুদিন আগে প্রকাশিত এক সংবাদে।

গত ২০ আগস্ট রমনা থানার মালিবাগ থেকে পরিকল্পনাকারীসহ অজ্ঞানপার্টির ছয় সদস্যকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। হজে গিয়ে হজযাত্রীদের ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা করছিলেন তারা।

এমনকি এজন্য গ্রুপের পরিকল্পনাকারী ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগও করেন। তাদের টার্গেট ছিল, এবারের হজ থেকে অন্তত এক কোটি টাকা আয়ের।

সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অজ্ঞান পার্টি চক্রের সদস্য সন্দেহে ১৯ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

এভাবেই দিন দিন কৌশল পরিবর্তন করে মানুষকে প্রতারিত করে চলেছেন অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা।

Comments

comments